বখাটের কোপে ওসমানী হাসপাতালে মৃত্যু মুখে লড়ছে সামিরা

বখাটের কোপে ওসমানী হাসপাতালে মৃত্যু মুখে লড়ছে সামিরা
সামিরা ও বখাটে জুয়েল

বখাটের কোপে ওসমানী হাসপাতালে মৃত্যু মুখে লড়ছে সামিরা

‘প্রেমের প্রস্তাবে’ রাজি না হওয়ায় বখাটে যুবক জুয়েল(২০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপিয়ে গুরুতর আহত করেছে মৌলভীবাজার কুলাউড়া উপজেলার স্কুলছাত্রী মায়মুনা আক্তার সামিরা(১৫)কে। সামিরা গুরুত্বর অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছে। বর্তমানে সামিরার অবস্থা খুবই আশংকাজনক। সামিরার শরীরে ২৫টি সেলাই করা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত বখাটে যুবক জুয়েলকে পুলিশ আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

গুরুত্বর আহত সামিরাকে দেখতে ওসমানী হাসপাতালে যান মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. শাহজালাল। তিনি  সামিরার পরিবারকে সদস্যদেরকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী যুবকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মায়মুনা আক্তার সামিরা(১৫) মৌলভীবাজার কুলাউড়া উপজেলার সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়া কালীন জুয়েল সামিরাকে রাস্তা ঘাটে উত্যক্ত করত। এই সময় ইইপি সদস্য ও স্কুলের কর্তৃপক্ষের নিকট বিচার দিয়েও কোন প্রকার সমাধান হয়নি। তার পর উপায় না পেয়ে সামিরা স্কুলও বদলে ফেলেন। তার পর সামিরার পিতা-মাতা ভর্তি করেন সাদেকপুর আল-হেরা ক্যাডেট স্কুলে। এখন সামিরা এই স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। তার পরও থামেনি বখাটে। সেখানেও রাস্তায় উত্যক্ত করে বখাটে জুয়েল।

এর পর গত শনিবার  স্কুল থেকে ফেরার পথে সামিরাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে বখাটে জুয়েল। এই সময় স্থানীয় লোকজন জুয়েলকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশের নিকট তুলে দেয। আহত অবস্থায় সামিরাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পড়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওসমানী হাসপাতালে সামিরার পাশে থাকা তার চাচা সোয়াইব আহমদ বলেন, ওসমানীতে সামিরার অস্ত্রপচার করা হয়েছে। তবে তার অবস্থা এখনও সঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সামিরার মাথার আঘাত গুরুতর বলে জানান তিনি।

কুলাউড়া থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান জানান, জুয়েলকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন সামিরার মা। ওই মামলায় জুয়েলকে গ্রেফতার দেখিয়ে রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.